রংমহল / স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।
pun_logo

আপনি প্রবেশ করেননি

  • হোম
  •  » বিবিধ
  •  » স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।

03-02-2010 11:22 PM

জিয়া চৌধুরী
সমন্বয়ক
থেকে: মরুভুমির শহর থেকে
নিবন্ধিত হয়েছেন: 24-06-2009
পোস্ট: 2414
ওয়েবসাইট

স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।

Login / Register to view the link



http://www.rongmohol.com/uploads/2026_2010_02_04_1_6_b.jpg



http://www.rongmohol.com/uploads/2026_2010_02_04_1_18_b.jpg


http://www.rongmohol.com/uploads/2026_2010_02_04_3_8_b.jpg




নাম-হামিম শেখ, শ্রেণী-কেজি, রোল-৬২, শাখা-খ, বাংলা মাধ্যম। কার্টুন আঁকা স্কুল-ব্যাগটির ওপর এভাবেই কাঁচা হাতে লেখা পরিচয়। ভেতরে বই-খাতা, শ্রেণীশিক্ষকের লেখা দিনের কাজ, টিফিন বক্স, পানির বোতল—সবই আছে। নেই শুধু ব্যাগ কাঁধে করে বাড়ি ফেরা শিশু হামিম। স্কুলের সামনেই ঘাতক বাস তার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ ব্যাগটিই এখন সবার স্মৃতি।
স্কুল-ব্যাগের দিকে তাকাতেই ফৌজি পোশাক পরা অধ্যক্ষের চোখ ভিজে আসে। চোখ মুছতে মুছতে বললেন, জীবনের জন্য তার ছুটি হয়েছে। আর কোনো দিনই সে স্কুলে আসবে না।
গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনের সড়কে মধুমতি পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় হামিম শেখ। বয়স ছয় বছর। এ ঘটনায় তার মা সোনিয়া শেখ চোখে গুরুতর আঘাত পান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাঁকে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ চালকসহ বাসটি আটক করেছে।
স্কুলের সামনেই ছাত্রকে গাড়ি চাপা পড়তে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছোট ছোট শিশু ও তাদের অভিভাবকেরা। তারা রাস্তায় বেরিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর শুরু হলে শিক্ষকদের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। ঘটনার পরই সব ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়। আজও ক্লাস হবে না।
নিহত হামিম মা-বাবার একমাত্র সন্তান। সে ২০০৯ সালে এই স্কুলে নার্সারিতে ভর্তি হয়। তার বাবা মোতালেব শেখ তৈরি পোশাকের ব্যবসা করেন। গ্রামের বাড়ি বিক্রমপুরে। থাকেন রাজধানীর নর্থ সাউথ রোডের লুত্ফর রহমান লেনে। এখান থেকে প্রতিদিন মায়ের সঙ্গে রিকশায় করে স্কুলে আসা-যাওয়া করত হামিম।
স্কুলের একজন শিক্ষক বলেন, ‘ছুুটির ঘণ্টা পড়তে না-পড়তেই ছোট ছোট ছেলেমেয়ে শ্রেণীকক্ষ থেকে হুড়োহুড়ি করে বেরিয়ে যেতে শুরু করল। হঠাত্ কে একজন খবর দিল, স্কুলের এক ছাত্র গাড়ি চাপা পড়েছে। মুহূর্তেই থেমে গেল কোলাহল। আমরা দৌড়ে বাইরে গিয়ে দেখি, সাদা শার্ট ও নীল প্যান্ট পরা একটি শিশু রাস্তায় পড়ে আছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ, মাথা ছিন্ন...।’ আর বলতে পারলেন না ওই শিক্ষক। তাঁর পাশে থাকা অন্যরাও কাঁদতে থাকেন।
গতকাল সকালের এ দুর্ঘটনা নিজের চোখে দেখেন কাস্টমস কর্মচারী এমদাদ হোসেন। প্রথম আলোকে তিনি জানান, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের উল্টো দিকে কয়েকটি পরিবহনের কাউন্টার আছে। বাসগুলো কাকরাইল মোড়ে না থেমে স্কুলের উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে থাকে। এ কারণে সব সময় এখানে ভিড় লেগে থাকে। গতকাল সকালেও বিভিন্ন পরিবহনের চারটি বাস যাত্রী তোলার জন্য সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। বাসগুলোর মধ্যে সবার পেছনে ছিল মধুমতি পরিবহনের একটি বাস। এটি যাত্রী নিয়ে দ্রুত বের হয়ে যাচ্ছিল। শিশুটি তখন মায়ের হাত ধরে রাস্তা পার হচ্ছিল। মায়ের এক হাতে স্কুলের ব্যাগ ও আরেক হাতে শিশুর হাত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাসটি প্রথমে মাকে ধাক্কা দেয়। এরপর দ্রুত পালাতে গিয়ে শিশুটিকে চাপা দেয়। এতে শিশুটির মাথা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। মায়ের একটি চোখ গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
ঘটনার আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী ওই স্কুলের এক ছাত্রের বাবা বাবুল সারেক প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার সময় অনেক শিশু রাস্তায় ছিল। তারা এ মৃত্যু দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এরপর স্কুলের লোকজন ও অভিভাবকেরা মিলে আহত সোনিয়াকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। শিশুটির লাশ পুলিশ এসে মর্গে পৌঁছে দেয়। বিকেলে মরদেহ তার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
হামিম নিহত হওয়ার খবর শুনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছুটে আসে পরিবার ও আশপাশের লোকজন। হামিমের খালা শান্তা জানান, তার স্কুলের ব্যাগে ফোন নম্বর ছিল। সেই নম্বর ধরে কেউ একজন ফোন করে তাঁদের হাসপাতালে আসতে বলেন। হামিমের বাবা এ সময় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন। একমাত্র সন্তানের লাশ দেখে মর্গের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা মোতালেব শেখ। কান্না ছাড়া তাঁর মুখে কোনো ভাষা ছিল না।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবলী নোমান জানান, সকালে স্কুলের সামনে গাড়ি চাপা পড়ার ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সড়ক অবরোধ করে। এতে কাকরাইল মসজিদ থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল আধাঘণ্টা বন্ধ থাকে। পরে পুলিশের আশ্বাসে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তারা সড়ক ছেড়ে দেয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের স্কুলে ফিরিয়ে নেয়।
ওসি জানান, বাসটি ধাওয়া করে মত্স্য ভবনের কাছ থেকে চালকসহ আটক করা হয়। পরে রমনা থানায় এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। চালকের লাইসেন্স ভুয়া হতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। ঘাতক চালক শামসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, রাস্তাঘাটে এমন দুর্ঘটনা হতেই পারে। মালিক জানলেই ছাড়িয়ে নেবেন।
সালমা নামের এক ছাত্রের মা বলেন, স্কুলের ছাত্রদের রাস্তা পার হওয়ার জন্য স্কুলের সামনে একটি উড়াল সেতু আছে। কিন্তু তাতে কেউ ওঠে না। সবাই দৌড়ে রাস্তা পার হয়। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় পাশে দাঁড়ানো আরেকজন মা বলেন, উড়াল সেতুর চারদিক বিজ্ঞাপনে ঢাকা এবং পরিবেশ খারাপ। ছিনতাইকারীর ভয়ে কেউ উঠতে চায় না।
স্কুলের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, স্কুলের বাচ্চারা যাতে নিরাপদে রাস্তা পার হতে পারে, সে জন্য স্কুলের বাইরে ছয়জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করতে ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু সে প্রস্তাব এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। স্কুলের সামনের রাস্তায় গতিরোধক দেওয়ার প্রস্তাবও তিনি করেছেন। অধ্যক্ষ বলেন, হামিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে আজ বৃহস্পতিবার স্কুলের সব শাখা বন্ধ থাকবে।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন জিয়া চৌধুরী (03-02-2010 11:24 PM)


যে টপিকটা আপনি এখন পড়ছেন তাতে মন্তব্য করেছেন তো? এখনই করে ফেলুন। আপনার মন্তব্য এবং রেপু টপিক দাতাকে আরো ভাল ভাল টপিক লিখতে উৎসাহিত করবে।

অফলাইন

03-02-2010 11:29 PM

জিয়া চৌধুরী
সমন্বয়ক
থেকে: মরুভুমির শহর থেকে
নিবন্ধিত হয়েছেন: 24-06-2009
পোস্ট: 2414
ওয়েবসাইট

Re: স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।


‘রক্তে ধুয়ে গেল সব স্বপ্ন’

‘আমি বাড়ি না ফিরলে তো সে ঘুমায় না, এহন একা ঘুমাইসে ক্যান? বাজানরে...ঘুমায়ও না মানিক।’ প্রাণহীন হামিমের শরীরে হাত বুলিয়ে বাবা একনাগাড়ে চিত্কার দিয়ে ডেকেও ছেলের ঘুম ভাঙাতে পারেন না। আবারও বলতে থাকেন, ‘আদরের ধন, তোমারে না দেখলে মা ভাত খাবে না। ওঠো, চলো মার কাছে যাই।’ একমাত্র শিশুসন্তানের লাশ বুকে নিয়ে বাবার এই আর্তচিত্কারে স্তব্ধ হয়ে যায় চারদিক।
ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে তখন মানুষের ভিড়। কেউ জানে না, ঠিক কোন কথাটা এখন হামিমের বাবাকে একটু সান্ত্বনা দেবে। ঘাতক বাসের আঘাতে গুরুতর আহত স্ত্রী হাসপাতালে আর কাফনে ঢাকা ছয় বছরের ছেলের লাশ যাঁর সামনে, তাঁকে কী-ই বা সান্ত্বনা দেওয়া যায়। হামিমের বাবা মোতালেব শেখ হঠাত্ কান্না থামিয়ে দ্রুত বলতে থাকেন, ‘হায় হায়, সোনিয়া এহনও জানে না, হামিম নাই। হে আমার কাছে হামিমকে ফেরত চাইলে আমি তার হাতে কী তুলে দিব। এ কোন কঠিন পরীক্ষায় ফেললা তোমরা?’ এই আহাজারিতে আক্রান্ত মানুষের মুখে তখন কোনো সান্ত্বনার বাণী আসে না। তখন নিহত হামিমের আত্মীয়, প্রতিবেশী বা অপরিচিত পথচারী সবার মুখেই ঘাতকের জন্য অভিশাপ আর ধিক্কার।
পুরান ঢাকার নাজিরাবাজারের মোড়ের কাছে যেতে কানে এল মসজিদের মাইকে ঘোষণা—একটি শোক সংবাদ। লাশ বুকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে বসে শোকে বিহ্বল বাবারও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, মাইকে তাঁর হামিমের কথাই বলা হচ্ছে। লুত্ফর রহমান লেনে তাদের বাড়ির গলির মুখে যখন অ্যাম্বুলেন্সটি পৌঁছে, তখন অপেক্ষারত নানি এক দৌড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন হামিমের কাফনে। বলতে থাকেন, ‘ওরে সোনা, যে পোশাকই পরিস দেখবার লাহান সোন্দর দেহায়, এই কাফনে তোরে বালা দেহায় না রে ভাই।’
কে কাকে সান্ত্বনা দেবে। সবাই শোকে কাতর। নাজিরাবাজার থেকে সরু গলিপথ দিয়ে হামিমের বাড়ি পর্যন্ত লাইন ধরে মানুষ। সবার চোখে পানি। ধরা গলায় হামিমের মায়ের ছেলেবেলার বন্ধু পান্না বললেন, ‘ছেলেরে না পেলে সোনিয়া বাঁচবে না। ছেলেরে ভালো স্কুলে পড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে গিয়েছিল। পান্নাকে সোনিয়া প্রায় বলতেন, ছেলেকে নিয়ে তাঁর স্বপ্নের গল্প। আর বাবা কী স্বপ্ন দেখতেন? এক কোণে দাঁড়িয়ে তিনি একা একা বলতে থাকেন, ‘আমাদের হামিম বড় হয়ে কত কী হবে ভেবেছি, ভালো মানুষ হবে, ডাক্তারি পড়বে, আমরা হব গর্বিত বাবা-মা, সব স্বপ্ন রক্তে ধুয়ে গেল, ভাসায়ে নিল।’
হামিমের বেশির ভাগ সময় কাটত নানি ও খালাদের সঙ্গে। আর সবচেয়ে কাছের বন্ধু ডিউক। পাশের গলিতে থাকে। ও জানে না বন্ধু নেই, আর ফিরবে না। তোমরা কী কী খেলতে জানতে চাইলে সে বলে, আমাদের একটা বড় খেলনা রেলগাড়ি আছে। সেটার রেললাইন তৈরির সময় হামিম কখনোই পুরোটা শেষ করতে দিত না। অনেক দুষ্টু, আমার চেয়ে বেশি দুষ্টু। কথা শেষ না হতেই আশপাশে বসে থাকা মানুষের দীর্ঘশ্বাসের শব্দে ভরে ওঠে ঘর। মাথা নিচু করে ডিউকের গল্প শুনতে শুনতে মনে হতে থাকে ‘জীবনের শুরুতেই চলে যাবে বলেই কি রেললাইন অর্ধেকটা তৈরি করেই ভেঙে ফেলত হামিম?
এ দম্ভ কোত্থেকে আসে?
হামিমের মরদেহ মর্গে রেখে এলাকার লোকজন ছুটে রমনা মডেল থানার দিকে। তারা একনজর দেখতে চায় সেই ঘাতক চালকের চেহারা। তারা বলতে থাকে, ‘নিষ্পাপ শিশুটির জীবন নিয়ে সে বেঁচে থাকবে কেন? আমরা তার শাস্তি চাই। সবার বাচ্চা যেন নিরাপদ থাকে, সে জন্য এদের শাস্তি পেতেই হবে।’ থানায় পৌঁছে ঘাতক ছেলেটার দিকে তাকিয়ে একজন অস্ফুটে বলে ওঠেন, ‘এই ছোট ছেলেরে যারা লাইসেন্স দিসে, তাদের শাস্তি আগে দেওন দরকার।’ ক্ষোভে রক্তচক্ষু মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে ঘাতক চালক শামসুর রহমান বলে, ‘আমারে আটকায়ে রাখবার পারবেন না। মালিক আমার কোটিপতি। দুই দিনে বাইর কইরা লইয়া যাইব গা।’ যে চোখগুলো ঘাতকের দিকে তাকিয়েছিল, তারা যেন চালকের কথা বিশ্বাস করতে পারছিল না। দুর্ঘটনার সময় থেকেই হামিমের পাশে পাশে ছিলেন এক পথচারী এস এম রেজা। চালকের উক্তিতে বিস্মিত না হয়ে বলেন, দুর্ঘটনার বিচার হলে এরা এত দম্ভ দেখাতে পারত না।


যে টপিকটা আপনি এখন পড়ছেন তাতে মন্তব্য করেছেন তো? এখনই করে ফেলুন। আপনার মন্তব্য এবং রেপু টপিক দাতাকে আরো ভাল ভাল টপিক লিখতে উৎসাহিত করবে।

অফলাইন

04-02-2010 12:00 AM

Rabbi
নতুন সদস্য
থেকে: Mugdapara , Dhaka
নিবন্ধিত হয়েছেন: 21-07-2009
পোস্ট: 47

Re: স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।

খুব খারাপ লাগছে ভাই ।

এত ফুটফুটে শিশুটাকে ঐ ঘাতক চালকটা মেরে ফেললো ।

অফলাইন

04-02-2010 12:38 AM

অচেনাকেউ
নীল
নিবন্ধিত হয়েছেন: 11-05-2009
পোস্ট: 3644

Re: স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।

মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক ।
গতরাতে টিভিতে নিউজ'টা দেখছিলাম,
খবরটা দেখে আমার স্ত্রীর চোখে পানি
এবং সেটা আমার মধ্যেও সংক্রামিত হলো ।


একজন মানুষের জীবন হচ্ছে - ক্ষুদ্র আনন্দের সঞ্চয়। একেকজন মানুষের আনন্দ একেক রকম ...
Login / Register to view the link

অফলাইন

04-02-2010 12:40 AM

কামাল হোসেন
নতুন সদস্য
থেকে: তোপখানা রোড, সেগুনবাগীচা, ঢাকা
নিবন্ধিত হয়েছেন: 28-01-2010
পোস্ট: 59

Re: স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।

জিয়া ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ
বিশেষ করে এই সংবাদটা শেয়ার করার জন্য।

এই স্কুলের সম্মুখে একটি ওবার ব্রীজ থাকলেও তার অবস্থা কি আপনি একবার দেখেছেন?
স্কুলের সামনে কোন প্রকার স্প্রীট ব্রেকার নেই। এতে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোন সু-দৃষ্টি নেই।

আমি মনে করি প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত স্কুলের বিরুদ্ধে।

অফলাইন

04-02-2010 01:17 AM

আসিফ বাংলার পথিক
রংছটা
নিবন্ধিত হয়েছেন: 08-11-2009
পোস্ট: 975

Re: স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।

জিয়া ভাই, আসলেই ঘটনাটা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। গতকাল সবখানেই এই বিষয়েই আলোচনা হচ্ছিল।

কামাল হোসেন লিখেছেন:
এই স্কুলের সম্মুখে একটি ওবার ব্রীজ থাকলেও তার অবস্থা কি আপনি একবার দেখেছেন?
স্কুলের সামনে কোন প্রকার স্প্রীট ব্রেকার নেই। এতে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোন সু-দৃষ্টি নেই।

আমি মনে করি প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত স্কুলের বিরুদ্ধে।

আমি জানি এই মুহূর্তে আমার কথাগুলো ভাল লাগবে না আপনাদের। তারপরও বলছি। আমাদের প্রধান স্বভাব হয়ে গেছে অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়া। স্কুলের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হচ্ছে। কেন দোষ অন্যের উপর চাপাবো? আমরা আমাদের দোষ/ভুল যদি না বুঝতে পারি তাহলে সচেতনতা আসবে কিভাবে? আমি এই বিবিধ বিভাগে "সাবধানতা! চলার পথে, জীবনের জন্য" Login / Register to view the link একটি টপিক দিয়েছিলাম সেখানে পথে চলার সময় আমাদের অসচেতনতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। আর আপনারা যারা ঢাকায় বাস করেন তারাতো প্রতিটা মূহুর্তে দেখছেন সেখানে অপেক্ষা না করে মানুষ কিভাবে যন্ত্র-তন্ত্র গাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পাড় হয়, রাস্তা ফাঁকা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার সময় যেন তাদের নেই। অনেকেই আমার সাথে একমত হয়েছিলেন সেই টপিকে যে, আমরা কতোটা অসচেতন হয়ে রাস্তা পাড় হই।
আসুন তাই শুধু শুধু অন্যের দোষ না দিয়ে আমরা নিজেরাই সচেতন হই। আমাদের সচেতনতাই আমাদের রক্ষা করতে পারে এই ধরনের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা থেকে।


http://www.rongmohol.com/uploads/3476_header_baner_tourist_spot3-1.jpg
-----------------http://rongmohol.com/uploads/3476_-1-2.jpg

অফলাইন

04-02-2010 01:36 AM

অয়ন খান
রংছটা
থেকে: ২৩°৪২′১৩″ উঃ, ৯০°২৩′১৮″ পূঃ
নিবন্ধিত হয়েছেন: 09-09-2009
পোস্ট: 794
ওয়েবসাইট

Re: স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।

চোখে পানি চলে এসেছে, কিছু লেখার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।


Login / Register to view the link
Login / Register to view the link
Login / Register to view the link

অফলাইন

04-02-2010 02:24 AM

কামাল হোসেন
নতুন সদস্য
থেকে: তোপখানা রোড, সেগুনবাগীচা, ঢাকা
নিবন্ধিত হয়েছেন: 28-01-2010
পোস্ট: 59

Re: স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।

[আসিফ বাংলার পথিক] [আমাদের প্রধান স্বভাব হয়ে গেছে অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়া। স্কুলের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হচ্ছে। কেন দোষ অন্যের উপর চাপাবো? ]]

ভাই আজ যদি আপনার কেউ হত তাহলে কি বলতেন আমি সঠিক জানি না।
তবে আমি অনুভব করেছি। আপনি কি হামিমের মায়ের ছবিটা একবার দেখেছন, বাবার ছবি, তোয়ালের মাঝে ঘুমিয়ে থাকা হামিম। যে কিনা তার স্বপ্নের স্কুলে আর কোন দিন ছুটে যাবে না।

আর প্রশাসনকে দোষের কথা বলছেন- তাদের কি উচিত ছিল না স্কুলের সামনে একজন পিওনকে দাড় করিয়ে রাখা। তারা কি রাস্তার মাঝে স্প্রীট-বেকারের ব্যবস্থা করতে পারতো না।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন কামাল হোসেন (04-02-2010 02:26 AM)

অফলাইন

04-02-2010 02:54 AM

ইলিয়াস
রঙ্গিন
থেকে: তুষার ইলেকট্রনিক্স
নিবন্ধিত হয়েছেন: 08-10-2009
পোস্ট: 1616
ওয়েবসাইট

Re: স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।

গতরাতে টিভির খবরে দেখলাম । কি বলব ভাষা হারিয়ে ফেলেছি । তবে যা ঘটেছে কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না ।
মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক ।


Login / Register to view the link
Login / Register to view the link

অফলাইন

10 04-02-2010 04:01 AM

আসিফ বাংলার পথিক
রংছটা
নিবন্ধিত হয়েছেন: 08-11-2009
পোস্ট: 975

Re: স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।

কামাল হোসেন লিখেছেন:
ভাই আজ যদি আপনার কেউ হত তাহলে কি বলতেন আমি সঠিক জানি না।

ভাই, আসলে এখানে আমার/আপনার বলে কিছু নেই। এটা সর্বাঙ্গিন একটা ব্যাপার।
ভাই, আমি মনে হয় কি বলতে চেয়েছি সেটা ঠিকমতো বোঝাতে পারিনি। আমি দীর্ঘদিন সমাজ-সেবক হিসেবে কাজ করেছি। সেই আলোকে বাস্তব কয়েকটা উদাহরন দিচ্ছি।

১/কুষ্টিয়ার জুগিয়ার হাইরোডের পাশে ২০০৮ সালে ট্রাকের ধাক্কায় শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু। ঘটনার সাথে সাথে উত্তেজিত জনতা, জ্বালাও-পোরাও, ট্রাক আটক। ঘটনার ৪-৫ ঘন্টা পর সেই শিশুর বন্ধুকে খুঁজে পাওয়া গেল যে মৃত্যুবরনকারী শিশুর (পুকুরে গোসলরত অবস্হায়) জামা-কাপড় নিয়ে দৌড় দিয়েছিল। সাথে সাথে এই শিশু তার জামা-কাপড় আনতে দৌড় দিলে হাইয়ের ডান-বাম পাশ দেখে পাড় হবার সুযোগ পাইনি। ফলে সরাসরি চাকার নিচে গিয়ে পড়ে। তাহলে এখানে দোষ কার?

২/কুষ্টিয়ার পুরাতন আলফা মোড়- ঘটনা গত বছরের। বাসের চাকায় পিস্ঠ হয়ে ঘটনাস্হলে যুবকের মৃত্যু। দুই বন্ধু মটর-সাইকেল যোগে যাচ্ছিল। ঘটনায় বেঁচে যাওয়া আরেক বন্ধুর বিকালে জ্ঞান ফেরার পর জানা গেল সে নাকি তার বন্ধুকে বারবার বলেছিল এতো স্পিডে ড্রাইভ করিস না। আর তার বন্ধু নাকি বলেছিল আমি এই ট্রাককে ওভারটেক করেই ছাড়বো। তাই, ওভারটেক করতে গিয়ে সামনে থেকে আসা বাসের সাথে সরাসরি সংঘর্ষ হয়। তাহলে এখানে দোষ কার?

এবার আমার একদম চোখের সামনে ঘটা ঘটনা---
৩/একটা ইউনিভার্সটিতে চলন্ত একটি বাসে উঠতে গিয়ে ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু। পরে দেখলাম প্রচুর গাড়ি পোড়ানো হলো এবং গাড়ি ভাঙ্গা হলো। অথচ আমি নিজের চোখে দেখেছিলাম যে, ছাত্রটি গাড়ি থামার জন্য হাত পযর্ন্ত দেখাইনি। আচমকা চলন্ত গাড়িতে উঠতে গিয়েছিল। তাহলে এখানে দোষ কার?

৪/কুষ্টিয়া মজমপুর গেট। গত বছর রেল-ক্রসিংয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে গেট পড়ে যাওয়া সত্বেও মাঝের ফাঁকা অংশ দিয়ে রিক্সা পাড় করতে যেয়ে ট্রেনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ। তাহলে এখানে দোষ কার?

৫/ কুষ্টিয়ার রোডে আমি আমার বন্ধুর মটর-সাইকেলে বসে ছিলাম আর সে চালাচ্ছিল। হঠাৎ একটা বাচ্চা আচমকা দৌড়ে রোডের মাঝে চলে এলো। আমরা একটু দূরে ছিলাম বলে রক্ষা। যদি কাছাকাছি থাকতাম তাহলে ব্রেক করেও কি বাচ্চাটাকে ধাক্কা দেবার আগে থামাতে পারতাম? তখনই বাচ্চার মা ছুটে এসে বাচ্চাকে নিয়ে গেলেন। আসলে তারা রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন। মা আরেক মহিলার সাথে গল্প করতে করতে যাচ্ছিলেন বিধায় বাচ্চাকে খেয়াল করেননি। তাহলে এখানে অসচেতন কে যানবাহন-ড্রাইভার, স্প্রিডব্রেকার নাকি বাচ্চার মা?

এইজন্যই আমাদেরই আগে সচেতন হতে বলছি। খারাপ কিছু বলেছি কি?

ভাই, এরকম প্রচুর ঘটনা আমার জানা এবং প্রমানিত কারন আমি সামাজিক কাজ করেছি। আর আমাদের গুরুত্বপূর্ন কাজটা থাকতো ঘটনার এক মাস পর। তখন তাদের বাসায় গেলে দেখতাম কান্নাকাটি আর নিজেদের ভুলের মাসুলের জন্য আফসোস। তারা কানতেন আর বলতেন...
ভাই, এই যে আজ আমাদের এই সিমপ্যাথি, দুই দিন চেচামেচি করবো তারপরেতো আমরা ভুলে যাবো কিন্তু যারা সন্তান হারালেন তারাতো কখনও ভুলতে পারবেন না। ভুলা সম্ভবও না। যার গেল সেতো আর হারানোকে ফিরে পাবে না। আমরা আজ এতো কিছু বলছি দুই দিন পরতো আমরা আর তাদের খোঁজ-খবর নিতে যাবো না। এক মাস পড়ে একটু সেই মায়ের কাছে গিয়ে কথা বলে দেখুনতো তিনি কি বলেন?

কামাল হোসেন লিখেছেন:
তবে আমি অনুভব করেছি। আপনি কি হামিমের মায়ের ছবিটা একবার দেখেছন, বাবার ছবি, তোয়ালের মাঝে ঘুমিয়ে থাকা হামিম। যে কিনা তার স্বপ্নের স্কুলে আর কোন দিন ছুটে যাবে না।

ভাই, মনে করবেন না যে শুধুমাত্র আপনিই অনুভব করেছেন। নিচের লেখাটা একটু দেখেন---

আসিফ বাংলার পথিক লিখেছেন:
জিয়া ভাই, আসলেই ঘটনাটা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক।

আমি জনগনকে চলার পথে সচেতন করতে চেয়ছি সেটা কি আমার ভুল???


http://www.rongmohol.com/uploads/3476_header_baner_tourist_spot3-1.jpg
-----------------http://rongmohol.com/uploads/3476_-1-2.jpg

অফলাইন

11 04-02-2010 04:24 AM

জিয়া চৌধুরী
সমন্বয়ক
থেকে: মরুভুমির শহর থেকে
নিবন্ধিত হয়েছেন: 24-06-2009
পোস্ট: 2414
ওয়েবসাইট

Re: স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।

আসিফ, আপনার দেয়া প্রতিটি উদাহরণ ও ব্যাখা শতভাগ সত্য। আমরা নিজেদের পথ চলার ভুলে অযথা প্রাণ হারাই। আমরা যদি একটু সচেতন হই তাহলে পথ চলতে গিয়ে এধরনের দুঘর্ঠনা অনেক কমে আসবে।


যে টপিকটা আপনি এখন পড়ছেন তাতে মন্তব্য করেছেন তো? এখনই করে ফেলুন। আপনার মন্তব্য এবং রেপু টপিক দাতাকে আরো ভাল ভাল টপিক লিখতে উৎসাহিত করবে।

অফলাইন

12 04-02-2010 09:23 AM

মহসিন
বেগুনী
থেকে: চট্টগ্রাম
নিবন্ধিত হয়েছেন: 26-09-2008
পোস্ট: 2551
ওয়েবসাইট

Re: স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।

এরকম ঘটনায় আমি খুব কষ্ট পাই। নিউজটা পড়ে আমার চোখে পানি চলে এসেছে।


Login / Register to view the link
একবার এসে দেখ আমায় ..............

অফলাইন

13 04-02-2010 10:20 AM

acidage
রঙ্গিন
থেকে: চট্টগ্রাম
নিবন্ধিত হয়েছেন: 22-12-2009
পোস্ট: 1025
ওয়েবসাইট

Re: স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।

অনেক খারাপ লেগেছে। কিন্তু মরন তো আছেই। আল্লাহ সবকিছু ভালোর জন্যেই করেন। বিয়ে হওয়ার পর মরলে বেচারার বউটা কষ্ট পেত।  sad

অফলাইন

14 13-02-2010 08:29 AM

স্বপ্নহীন আরিফুল
রংমাখা
থেকে: দুবাই
নিবন্ধিত হয়েছেন: 23-12-2009
পোস্ট: 204
ওয়েবসাইট

Re: স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।

সত্যি,  মেনে নেওয়ার মত নই । তবুও মেনে নিতে হয় । এটাই বিধাতার লীলা খেলা ।


ইচ্ছে করে আজ,
        দূরে কোথাও হারিয়ে যায় ... ...
             যেখানে আমি ছাড়া আর কেউ থাকবে না... !

অফলাইন

  • হোম
  •  » বিবিধ
  •  » স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ।
||

Board footer

এটি তৈরী করা হয়েছে পানবিবি ইঞ্জিনের উপর

পরিচালনা : সামিউল ইসলাম

অনুবাদ: জাকির হোসেন রাজু

কপিরাইট © ২০০২-২০০৫ রিকার্ড এন্ডারসন

তথ্য বিনিময় (সিন্ডিকেশন) (RSS)